শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

বিজ্ঞাপন:
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম...
শিরোনাম :
নাগেশ্বরী অনলাইন প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি নাগেশ্বরী থানার ওসির সাথে সৌজন্য সাক্ষাত বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডের লজ্জার তালিকায় যুক্ত হলেন এনজো ফার্নান্দেজ হামলা চললে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘এক ফোঁটা’ তেল-গ্যাসও যাবে না: ইরান ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন: ফের লা রোজার বিশ্বজয় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন ইতিহাস গোলের নেশার ওপর পাশে লামিন ইয়ামাল ফাইনালে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি বার্ষিক পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এনামুল হক জয়পুরহাটের আমদই ইউনিয়নে যৌন উত্তেজক সিরাপসহ ১’জন গ্রেফতার বালুবাহী ট্রাকের চাপায় রূপগঞ্জে বৃদ্ধ নিহত

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন ইতিহাস

সময়ের খবর ডেস্ক:

বিশ্বকাপ কেবল একটি ট্রফির লড়াই নয়; এটি ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি এবং মানসিকতারও যুদ্ধ। তাই ফুটবলে কখনো কখনো প্রতিপক্ষের চেয়েও বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে অতীত।

প্রায় আট দশক ধরে একটি বিশ্বাস ফুটবল বিশ্বকে শাসন করেছে—আমেরিকার মাটিতে ইউরোপ বিশ্বকাপ জিততে পারে না। কিন্তু ২০১৪ সালে ব্রাজিলের হৃদয় ভেঙে সেই বিশ্বাসে প্রথম আঘাত হেনেছিল জার্মানি। আজ, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে স্পেনের সামনে তাই শুধু শিরোপা জয়ের নয়, ইতিহাসকে নতুন করে লেখার সুযোগ।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। ইউরোপের প্রতিনিধিত্ব করছে স্পেন, আর দক্ষিণ আমেরিকার আশা বহন করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করবে, জার্মানির ২০১৪ সালের সাফল্য ইতিহাসের ব্যতিক্রম হিসেবেই থেকে যাবে, নাকি সেটিই হবে নতুন যুগের সূচনা।

আর্জেন্টিনার উত্থান, ইউরোপের হতাশা

১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপের আয়োজন করে আর্জেন্টিনা। ঘরের মাঠে মারিও কেম্পেসের নৈপুণ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আলবিসেলেস্তেরা। আট বছর পর মেক্সিকো বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুতে আবারও শিরোপা যায় দক্ষিণ আমেরিকায়।

এই সময়ে ইউরোপের শক্তিধর দলগুলো—নেদারল্যান্ডস, ইতালি, পশ্চিম জার্মানি কিংবা ইংল্যান্ড—প্রতিবারই আশা নিয়ে এসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। আমেরিকার মাটিতে ইউরোপের জন্য বিশ্বকাপ যেন অধরাই থেকে যায়।

২০১৪: জার্মানির হাতে ভাঙে ৮৪ বছরের দেয়াল

২০১৪, ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ফাইনালে মুখোমখি হয় জার্মানি ও আর্জেন্টিনা। সেই ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় জার্মানি। মারিও গোটজের সেই ঐতিহাসিক গোলের সঙ্গে ভেঙে যায় ৮৪ বছরের এক অলিখিত অভিশাপ।

স্পেনের সামনে ইতিহাসের হাতছানি

বারো বছর পর বিশ্বকাপ আবার ফিরেছে উত্তর আমেরিকায়। এবার ইউরোপের প্রতিনিধি স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে থাকা লা রোজা আবারও দেখিয়েছে, আধুনিক ফুটবলে বল দখল, গতি এবং কৌশলের নিখুঁত সমন্বয় কতটা কার্যকর হতে পারে।

তবে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ এমন একটি দল, যারা শুধু শিরোপাই নয়, নিজেদের ফুটবল ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইও লড়ছে। আর্জেন্টিনা জানে, এই ম্যাচ জিততে পারলে আমেরিকার মাটিতে দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘ আধিপত্য আবারও অটুট থাকবে। অন্যদিকে স্পেন জিতলে ইউরোপের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে নতুন ইতিহাস লিখবে।

এই ফাইনালকে কেবল স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা বললে ভুল হবে। এটি ইউরোপ বনাম দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল দর্শনেরও সংঘর্ষ। একদিকে সংগঠিত, নিয়ন্ত্রিত ও কৌশলনির্ভর আধুনিক ইউরোপীয় ফুটবল; অন্যদিকে আবেগ, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকান ঐতিহ্য।

বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এই দুই মহাদেশের দ্বৈরথই ফুটবলের সবচেয়ে বড় গল্পগুলো তৈরি করেছে। আর আজ সেই গল্পে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন একটি অধ্যায়।

ইতিহাস কি বদলাবে?

পরিসংখ্যান বলছে, আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত আগের আটটি বিশ্বকাপের মধ্যে সাতটিতেই শিরোপা গেছে আমেরিকার কোনো দেশের হাতে। ব্যতিক্রম শুধু ২০১৪ সালের জার্মানি। সেই অর্থে স্পেনের সামনে চ্যালেঞ্জ দ্বিমুখী—প্রথমত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া, দ্বিতীয়ত প্রমাণ করা যে জার্মানির সাফল্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না।

আজ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তাই শুধু একটি ট্রফির ভাগ্য নির্ধারণ হবে না। নির্ধারণ হবে ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি বড় বর্ণনার ভবিষ্যৎও। আর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থক অপেক্ষায়—ইতিহাস কি নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে, নাকি নতুন করে লেখা হবে তার পরের অধ্যায়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2026
Design & Developed BY starwebhostit