সমরেশ রায়,কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধিঃ
আজ ১০ই নভেম্বর সোমবার, ঠিক দুপুর দুটোয়, কলকাতার শহীদ মিনারের সামনে, এ আই ইউ টি ইউ সি ‘র আহ্বানে, ৩৩ দফা দাবি নিয়ে ঐতিহাসিক শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো।
এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, মহান নেতা শিবদাস ঘোষের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে, এবং গন সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে।
এই ঐতিহাসিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, রাজ্য কমিটির সভাপতি এন গুপ্তা, সম্পাদক অশোক দাস, সহ সভাপতি কমরেড স্বপন ঘোষ, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কমরেড অমর চৌধুরী, কমরেড দীপক দেব, কমরেড জগন্নাথ মন্ডল, নন্দ পাত্র, দিলীপ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা।
মালিক শ্রেণীর স্বার্থে সর্বনাশা ৪টি শ্রম কোড , বেসরকারিকরণ সহ সমস্ত শ্রমিক স্বার্থবিরোধী নীতি এবং রাজ্য সরকারের শ্রমিক কর্মচারী স্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপ বিরুদ্ধে আমাদের এই সমাবেশ ও লড়াই।
কেন্দ্রের বি জে পি সরকার শ্রমিক শ্রেণীর সমস্ত অর্জিত অধিকার হরন করতে বর্তমানে ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে,৪টি শ্রম কোড এনেছে।ফ্লোর ওয়েজের আইন এনে নূন্যতম মজুরির নীচে মজুরি দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে মালিকদের। শ্রমিকদের দিনে আট ঘণ্টা কাজের অধিকারকেও হরন করে নিয়েছে, কোনো রকম শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না, ঠিকা প্রথায় সামান্য মজুরিতে কাজ করানো হচ্ছে। বড় বড় শিল্প পতিদের ঋন মকুব করে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা উপোঢৌকন দিচ্ছে,রেল, ব্যাংক, বীমা,খনি, ইস্পাত, জাহাজ, প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ শিল্পে আউট সোর্স বা ঠিকা কর্মী নিযুক্ত করে কম টাকায়।
শুধু তাই নয় একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ব্যাংক প্রাইভেট এর হাতে চলে যাচ্ছে, শিল্প গুলিকে দেশি ও বিদেশি দের হাতে টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়া হচ্ছে,ফলে আজ ওয়ার্কার রা বিপদের সম্মুখীন। শ্রমিক ঐক্যকে ধ্বংস করে ফেলছে। এমনকি শ্রমিকরা সামাজিক সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত।
তাই আজ শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থে এবং ন্যায্য দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সমাবেশ, আমরা তেত্রিশ দফা দাবি আদায়ের জন্য শহীদ মিনারের সামনে জমায়েত হয়েছি, অবিলম্বে আমাদের দাবি গুলি সরকার কে পূরন করতে হবে,
আমাদের দাবি গুলির মধ্যে কয়েকটি হলো,
সকল শ্রমিকদের সুপার স্পেসালিটি হসপিটালে চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে।
নূন্যতম পেনশন ৯০০০/ টাকা করতে হবে,
গ্ৰ্যাজুইটি মধ্যসীমা তুলে দিতে হবে,
গ্ৰুপ ডি কর্মচারীদের সরকারি স্বীকৃতি দিতে হবে।
অবসর কালীন পাঁচ লাখ টাকা করে কর্মীদের দিতে হবে।
শ্রমিক ছাঁটাই করা যখন তখন চলবে না, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা বিক্রয় করা চলবে না,
কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদান করতে হবে,
বছরে বোনাস ও গ্যাজুইটি সব দিতে হবে।
ব্যাংক গুলিকে বেসরকারি করন করা চলবে না।
যতদিন না সরকার শ্রমিক কর্মচারীদের দাবি না মেটাচ্ছে এই আন্দোলন চলবে। আজ বিভিন্ন সংগঠনের উপস্থিতিতে শহীদ মিনার ভরে গেছে, কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মচারী বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ী মহিলা কর্মীরাও উপস্থিত।
Leave a Reply